নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কঠোর বিধিনিষেধে গণপরিবহন বন্ধ থাকা অবস্থায় ২৫ জুলাই থেকে মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা হয়েছে। এর মধ্যে গত বছর মৌখিক পরীক্ষায় ফেল করা আড়াই শ ছাত্র/ছাত্রীদের মধ্যে অনেককেই ১১ জুলাই বার কাউন্সিলে গিয়ে ফরম পূরণ করতে দেখা গেছে । এবার লিখিত পরীক্ষায় পাস করেছেন ৫ হাজার ৪৬৬ জন। সেই সঙ্গে গত বছর মৌখিক পরীক্ষায় ফেল করা আড়াই শ ছাত্র/ছাত্রীরাও ভাইভা পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
১১ জুলাই থেকে বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট, রেজিস্ট্রেশন শাখা এবং ডেসপাচ শাখাগুলো খোলা রয়েছে । তবে, সেই শাখাগুলোতে কেবল মাত্র হাইকোর্ট পারমিট পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ এবং গত বছর মৌখিক পরীক্ষায় ফেল করা আড়াই শ ছাত্র/ছাত্রীদের এডমিট কার্ড সংগ্রহরে জন্য ফরম পূরণ করতে দেখা গেছে।
নতুন করে যারা ইন্টিমেশন ফরম জমা দেবেন তাদের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, পরবর্তীতে যখন সরকারি বিধি মোতাবেক সকল অফিস-আদালত খোলা থাকবে, তখন থেকে পুনরায় ইন্টিমেশন ফরম জমা নেয়া হবে।
করোনাকালে বার কাউন্সিলের নানা সিদ্ধান্ত নিয়েই পরীক্ষার্থীরা বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তবে এবার গণপরিবহন বন্ধ থাকা অবস্থায় সশরীরে এসে কাগজপত্র জমা দেয়ার আদেশ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিস্ময়।
যাত্রী চলাচলে সব ধরনের যান্ত্রিক বাহন এখন বন্ধ। দূরের জেলা থেকেও আসতে হবে পরীক্ষার্থীদের।দূরের জেলার বাসিন্দারা কীভাবে আসবে, সেই প্রশ্নের জবাব নেই।

এই বিজ্ঞপ্তির পর পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যে প্রশ্ন জেগেছে, তার জবাব জানতে বার কাউন্সিলের সচিব ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মো. রফিকুল ইসলামের সাথে বার কাউন্সিলের বর্তমান নিজস্ব অফিসে সাক্ষাতকারে সময় কঠোর বিধিনিষেধে গণপরিবহন বন্ধ থাকা অবস্থায় ২৫ জুলাই থেকে মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এই বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন নি। তিনি তিনি বিডি ‘ল’ নিউজকে বলেন ভাইভা পরীক্ষা কবে নেয়া হবে তার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নোটিশের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।
এছাড়াও ভাইভা পরীক্ষা অনলাইনে নেয়া হতে পারে কিনা, এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তিনি বলেন এমন আগাম চিন্তা আমরা এখনো করি নাই।
পরবর্তীতে বার কাউন্সিলের সহ -সভাপতি ( Vice-Chairman ) এ্যাডভোকেট মুহাম্মদ ইউসুফ হুসেন হুমায়ুন- এর সাথে মোবাইল ফোনে সাক্ষাৎকারে সময় কঠোর বিধিনিষেধে গণপরিবহন বন্ধ থাকা অবস্থায় ২৫ জুলাই থেকে মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তিনি বিডি ‘ল’ নিউজকে বলেন , সামনে বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটির মিটিং রয়েছে, মিটিং এর সময় বার কাউন্সিলের চেয়্যারমান জনাব এ এম আমিন উদ্দিন জানাবেন।
এছাড়াও ভাইভা পরীক্ষা অনলাইনে নেয়া হতে পারে কিনা এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তিনি বলেন, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত নয়,ভাইভা পরীক্ষা ফিজিক্যাল বা সরাসরি নেওয়া হবে। তার পরেও এই বিষয়ে এনরোলমেন্ট কমিটির মিটিং-এর পরে খুব শিঘ্রই বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটি থেকে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হবে।
বার কাউন্সিলে আইনজীবীদের সনদ পেতে নৈর্ব্যক্তিক, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। আবার ওই তিন ধাপের যেকোনো একটি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা একবার উত্তীর্ণ হলে পরবর্তী পরীক্ষায় তারা দ্বিতীয়বার অংশ নেয়ার সুযোগ পান।
সে অনুসারে ২০১৭ সালের ৩৪ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে থেকে লিখিত পরীক্ষায় বাদ পড়া ৩ হাজার ৫৯০ জন শিক্ষার্থী এবার লিখিত পরীক্ষা দিতে পেরেছেন।
২০২০ সালে ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষানবিশ আইনজীবী নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে পাস করেন ৮ হাজার ৭৬৪ জন। তাদের সঙ্গে গতবার বাদ পড়াসহ মোট ১২ হাজার ৮৫৮ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন।
লিখিততে উত্তীর্ণরা এখন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেবেন। এখানে পাস করলেই আদালতে আইনজীবী হিসেবে পেশাগত কাজ শুরু করবেন শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা।
Discussion about this post