
বন্ধু বর এডভোকেট খলিল একনিষ্ঠ আওয়ামীলিগার ও সাদা প্যানেলের কর্মি, ২২ তারিখ সকাল বেলা তার সাথে দেখা হতেই সে নির্বাচন নিয়ে সাদা প্যানেলের কর্মে ক্ষোভ প্রকাশ করে বললো- চামচা দিয়ে ইলেকশন হয় না, ভোট করতে কর্মি আর ভোটার লাগে। সাথে একটা গল্প বললো যা আমার দারুনভাবে মনে ধরেছিল, গল্পটির শিরোনামে বলা যায়- ঘোষের বাড়ীতে চিড়া ভিজা পার্টি, এখন আসল কথায় আসিঃ
সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী হওয়ার সুবাদে কয়েক বছর যাবৎ সুপ্রীমকোট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। গত কয়েক বছর যাবৎ নির্বাচনে আওয়ামী পন্থি সাদা প্যানেল নির্বাচনে খারাপ করার পিছনে কিছু কথা আমার ফেসবুক ওয়ালে কয়েক বছর আগে লিখেছিলাম, আজ আবারও লিখেতে বসলাম এই কারনে যে, দলীয়করণ সব সময় কাজে আসে না, যতবড় দলকানা হোকনা কেন যোগ্য না হলে ভোটারা প্রত্যাখান করবে এটাই স্বাভাবিক।
যোগ্যতার বিষয়ে একটা উদাহরণ দিই। ১ নং হলরুমের এসি নষ্ট হলে আওয়ামী পন্থি একজন আইনজীবী ততকালীন আওয়ামী পন্থি নির্বাচিত সভাপতিকে মৌখিকভাবে অবহিত করালে তিনি- আমি দেখছি মর্মে আশ্বাস দিলেন। পরিদিনও এসি ঠিক না হওয়ায় পুনরায় উক্ত সভাপতিকে অবহিত করা হলে তিনি আবার বললেন ঠিক আছে আমি দেখছি। তারপরও এসি ঠিক না হলে উক্ত আইনজীবী বিষয়টি ততকালীন সেক্রেটারী মাহবুব উদ্দিন খোকনকে অবহিত করলেন, মাহবুব উদ্দিন খোকন ততক্ষনাৎ এসি মিস্ত্রিকে ডেকে এসি ঠিক না করার কারনে প্রচন্ড বকা ঝকা করলেন এবং ততক্ষনাৎ এসি ঠিক করালেন।
এবার আসি আসল বিষয়ে, সেটা হলো কেন আওয়ামী পন্থি প্যানেল সুপ্রীম কোর্ট বার নির্বাচনে ভালো করতে না কারণ যার মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলো-
১। প্রথম কারণ বা সর্বোচ্চ কারণ হিসাবে বলা যেতে পারে- প্রার্থী হারে না, দল হালে! দল যখন ক্ষমতায় থাকে তখন ক্ষমতাসীন সরকারের নেতিবাচক কর্মকান্ড যেমন সারাদেশে প্রভাব ফেলে তেমনি সুপ্রীম কোর্টেও প্রভাব ফেলে। ইদানিং কালের যে সমস্ত বিষয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে তাহলোঃ একজন প্রধান বিচারপতির বিদায়, সুপ্রীম কোর্টে প্রবেশে আইনজীবীদের সাথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিন অসৌজন্য আচরন, খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতের আদেশ, বহুতল ভবনের লোভ দেখানো ইহ্যাদি।
২। একক নেতৃত্বকে প্রাধান্য দেওয়া। এবারের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের একজন নেতার হাতে নেতৃত্ব দেওয়াতে অনেক সিনিয়র আইনজীবী প্রকাশ্যে না বললেও ভিতরে ভিতরে বিরোধিতা করেছেন বা চুপ থেকেছেন। অনেক পথিতযশা আইনজীবী নেতাকে নির্বাচনে কাজ করতে দেখা যায় নাই।
৩। এটর্ণী কার্যালয়ে ডিএজি এএজি নিয়োগে অনিয়মিত প্রাকটিসনার ও জজ কোর্ট প্রাকটিশনাদের নিয়োগে প্রাধান্য দেওয়া।
৪। ইন-একটিভ আওয়ামী কর্মীদের একটিভ করতে ব্যার্থতা।
৫। দুর দুরান্ত থেকে ভোটার আনতে না পারা বা যে সমস্ত আওয়ামী পন্থি আইনজীবী রেগুলার প্রাকটিস করেন না তাদেরকে ভোটের দিন আনতে না পারা।
৭। চাটুকারিতা একটি বড় বিষয়। আইনজীবী নেতাদের চারপাশে শুধ চাটুকারদের ভিড়। (কিছু দুষ্টলোকতো মুচকি হেসে বলে কিছু কিছু নেতার চারপাশে শুধু চাটুকার আর মহিলা আইনজীবী, চলে সেলফি)
যেটা দিয়ে শুরু করেছিলাম- বন্ধবর আইনজীবী খলিলের কথা দিয়ে; গোয়ালার কাছে দই আছে। সবাই চিড়া ভিজিয়ে দাড়িয়ে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিতে গোয়ালার দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করছেন, সাথে সেলফি তো আছেই দই প্রাপ্তির আশায়। গোয়ালার সাথে সেলফি তুলে ফেসবুকে প্রচার করে গোয়ালা সহ চিড়াওয়ালা ধন্য। কর্মি ভোটারের ঐ দুর আকাশের নীলিমায় তারা গোনা। ফলাফল!!! চামচা, চাটুকার সেলফিবাজি দিয়ে ভোট হয় না, তামাশা হয়।
Discussion about this post