নিজেকে নির্দোষ দাবি করে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল দাখিল করেছেন বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। আপিলে খালাস চেয়েছেন তিনি।
মিন্নির পক্ষে অ্যাডভোকেট মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম আজ মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল দাখিল করেন। মিন্নির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
শাহ নেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত গত ৩০ সেপ্টেম্বর এক রায়ে নিহতের স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। একইসঙ্গে চারজনকে খালাস দেয়। ৩ অক্টোবর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এর পরদিন আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ৪ অক্টোবর হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয়। এ অবস্থায় আজ বিকেলে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল দাখিল করা হয়।

রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় একটি অভিযোগপত্রের ওপর ভিত্তি করে প্রাপ্ত বয়স্ক ১০ জনের ক্ষেত্রে রায় দেওয়া হয়েছে। আর অপ্রাপ্ত বয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে মামলা বরগুনার শিশু আদালতে বিচারাধীন।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নয়ন ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে গুরুতর আহত করে। এরপর এলাকা ত্যাগ করে তারা। গুরুতর আহত রিফাত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই দিনই মারা যান।
ঘটনার পরের দিন ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ। এরপর ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক; দু’ভাগে বিভক্ত করে ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এতে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
গত ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এরপর ৮ জানুয়ারি থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন আদালত। মোট ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে এ মামলায়।
Discussion about this post