বিজ্ঞাপন, বিজ্ঞপ্তি থেকে শুরু করে যাবতীয় প্রচারমূলক কর্মসূচি গুলোর ক্ষেত্রে সভ্যতার প্রাচীন পর্ব থেকেই আমরা রাজপথ সহ শহর নগর পাড়া মহল্লা ওলি-গলির দৃশ্যমান দেয়ালগুলোই প্রচার পোষ্টারিং এর জন্য ব্যবহার করে থাকি।
তামার পাতে রাষ্ট্রের বিধিনিষেধ আইন কানুন সম্পর্কে লিখে যে তাম্র শাসনের প্রবর্তন হয়েছিল এটা সে বিষয়ের সর্বচ্চ নজির।
কালের প্রবাহে রাষ্ট্রের নির্দেশনা গেজেটে উঠে গেলেও ভিন্ন খাতের প্রচারণা দেয়াল লিখন পোষ্টারিং এসবে ব্যপৃত রয়েছে।
কিন্তু আধুনিক কালে মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন সৃষ্টিশীল মানুষগুলো দেয়াল লিখনকে নিয়ে গেছে চিত্রের পর্যায়, যে চিত্র কথা বলে, কোনো বিষয়ের ভাবার্থ তুলে ধরে মানুষের সামনে। আর শিল্পী তার চারুদক্ষতা ও সৃষ্টিশীলতা দিয়ে সমাজের অবক্ষয়, অপরাধ, ব্যর্থতা, পরাধীনতা, নির্যাতনের বাকরুদ্ধতাকে স্বরব করে তোলে গণমানুষের সম্মুখে।
একটি রাজপথের দেয়ালে আঁকা স্থির চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রের অস্থিরতাকে, যে নিজে স্থির রইলেও তার দিকে দৃষ্টিপাতে বলে যায় সে রাষ্ট্রের কান্না, এটাই তো গ্রাফিতি। যা আধুনিক সৃজনশীল সমাজের প্রতিবাদের একটি বহুল প্রচলিত মাধ্যম।
বাংলাদেশ আজ উত্তাল ধর্ষণের মতন অসভ্য বর্বর অমানবিক নিষ্ঠুর আপরাধ নিয়ে, তাই সময় এসেছে প্রতিবাদ গড়ে তোলার। নারীকে ঘরবন্দী করে রাখা, পোষাক সমালোচনা, চলাফেরা শিথিল করার পরামর্শ না দিয়ে গড়ে তুলতে হবে সামাজিক দূর্গ। জনসম্মুখে উন্মোচন করতে হবে পিচাশের মুখ, শৃঙ্খলা রক্ষা করতে মাতৃরূপা এই দেশটির। যাহাতে এদেশের সকল পরিবারের নারী সদস্যটিকে বাড়ির বাহিরে পা রাখতে ভাবতে না হয়, কলেজের মতন বিদ্যামন্দিরে ধর্ষণ হয়ে যেতে পারার মতন নিকৃষ্ট অপরাধটির কথা।
পিতার ভাবতে না হয় তার কন্যার সুরক্ষার বিষয়টি, মাতার ভাবতে না হয় নিজের মেয়েটিকে হায়নাদের কবল থেকে রেখে ঢেকে বাঁচিয়ে চলার বিষয়টি। ভাইটিকে যেন নিজের বোনের সুরক্ষার জন্য দিয়ে যেত না হয় প্রাণের আহুতি। এই দেশটার বুকে যেন আবার ঝড়ে না পরে কোন ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত নৃশংস পৈশাচিক অত্যাচারের শিকার ফুলটি, দুলক্ষ মা-বোনের নিপিড়ীত শাড়ির আঁচলে গড়া স্বাধীন দেশের পতাকাটি আবহমান কাল ধরে উড়ছে তার বুক ভরা বেদনা নিয়ে।
বিজ্ঞাপন
তাই বর্তমান দেশের সয়লাব ধর্ষণ যে সামাজিক অবক্ষয়ের চরম নিম্নগামী হয়েছে সেই প্রতিবাদে গ্রাফিতি আঁকতে গত রাতে গিয়েছিল এ জমানার মুক্তিযোদ্ধারা, কিন্তু তাদের এমন সমাজ সচেতনতা মূলক কার্যক্রমে বাধা প্রদান করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগণ। তারা সংবিধান প্রদত্ত নাগরিক স্বাধীনতার সামান্যতম অধিকার না দিয়ে, বহুবার স্বেচ্ছায় থানায় যাওয়ার জন্য স্বীকৃতি প্রদানের পরেও তাদের ঘার ধাক্কা দিয়ে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে উঠায়।
আর নাগরিক অধিকার কেঁদে ফিরে যায় রাষ্ট্র তোমার বুক থেকে, মুখস্থ ন্যায়ের বাণী বাড়ায় শুধু পরিক্ষার খাতার নম্বর। জীবন প্রবাহের নৈতিক ন্যায্যতা বুলি হয়ে ঝড়ে লোকরঞ্জনের রাজনীতিতে।
ছাত্র ইউনিয়নের জহর লাল রায় এবং সাদাত মাহামুদের প্রতিবাদ টুকু করতে দাও, হে রাষ্ট্র তোমাকে মিনতি।
Discussion about this post