নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি থেকে শিক্ষানবিশ আইনজীবী , শিক্ষক ও শ্রমিকদের জোরপূর্বক উঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে এই ঘটনার নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। একইসঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক গোলাম মনোয়ার কামাল স্বাক্ষীরত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগ ও নিন্দা জানানো হয়।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্দোলনরত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক ও তাজরীন ফ্যাশনস লিমিটেডের শ্রমিকদের পুলিশ লাঠিপেটা করে উঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) মনে করে, শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করা ও প্রতিবাদ জানানো নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। যা বিভিন্ন মানবাধিকার দলিলেও সুষ্পষ্ঠভাবে উল্লেখিত। আসক পুলিশের এমন নির্মম ও আইন বর্হিভূত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ ডিসেম্বর ভোররাত সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার দিকে ঘুম থেকে তুলে শিক্ষক ও শ্রমিকদের উঠিয়ে দেওয়া হয় বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তারা বলেছেন, রাতে হঠাৎ পুলিশ এসে তাদের গায়ে পানি মারে। এ সময় ঘুমন্ত শিক্ষক ও শ্রমিকদের লাঠিপেটা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘুমন্ত শ্রমিকদের কাউকে কাউকে লাথিও মারা হয়েছে।
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে জাতীয়করণের দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে ২২ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি। অন্যদিকে শ্রম আইনের ক্ষতিপূরণের ধারা সংশোধন করে তাজরীন অগ্নিকাণ্ডে আহত শ্রমিকদের সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ কয়েকটি দাবিতে ৮০ দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন শ্রমিকরা।একইভাবে ১৫৬ দিন ধরে লিখিত পরীক্ষা মওকুফ করে ভাইবা নিয়ে সনদের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দালন করে আসছিলেন শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলেন, বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭, সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার অনুচ্ছেদ ২০ এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত জাতিসংঘ সনদের অনুচ্ছেদ ২১, শান্তিপূর্ণভাবে নাগরিকের সভা-সমাবেশের অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
কাজেই আন্দোলনরত শিক্ষক ও শ্রমিকদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা না চালিয়ে এভাবে শক্তিপ্রয়োগ করা কোনও সভ্য, মানবিক এবং ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য নয়। আসক অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। একইসঙ্গে আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।
Discussion about this post