ধর্ষণবিরোধী_বাংলাদেশ
ধর্ষণের রমরমা অভয়ারণ্যের পরিণতির দিকে যাচ্ছে সোনার বাংলা। পরিসংখ্যানের হিসেবে বছর বছর গড়ছে উন্নয়নের রেকর্ড, ২০১৯ সালে সর্বচ্চ আলোচিত প্রায় ১৫০০ মতন ধর্ষণ হওয়ার পরও এ বছর সূচকের আরও উন্নয়ন হবে নিশ্চিত।
তবে এসকল সোনার টুকরো ধর্ষকদের নিয়ে গর্ব করার মতন একটি বিষয় আছে বটে। সোনার বাংলার মিডিয়া হাইলাইটেড ধর্ষকগুলো তারা অধিকাংশই শিক্ষিত বিএ, এমএ পাশ। তাহলে শিক্ষার উদ্দেশ্য কোন দিকে আগুয়ান বিষয়টি এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
ধর্ষণের বিষয়টি নিয়ে সরব প্রগোতিশীল ছাত্র পরিষদ, ছাত্র ইউনিয়ন সহ আপাময় সাধারণ ছাত্র জনতার মুখে এক দাবী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির এবং প্রশাসনিক কঠোর তৎপরতা সহ সামাজিক প্রতিরোধ৷
কিন্তু পরিস্থিতির গতিপথ শুধু এসকল বিচারিক, প্রশাসনিক, সামাজিক তৎপরতায় আটকানো কতটা সম্ভবপর হবে তা দৃশ্যমান আস্থাভাজন নয়। উল্লেখিত তৎপরতা যেমন পূর্বেও বহাল ছিল ঠিক আজ এবং আগামীতেও বহাল থাকবে কি, শুধু সাময়িক সময়ে মিডিয়ার চাপে কিছুদিন দহরমমহরম করে পরে সব আগের অবস্থাতেই ফিরবে নিশ্চিত। আমাদের ভাবতে হবে বিষয়টির স্থায়ী সমাধান।

নতুবা বাংলার প্রতি বাড়ির দরজায় দরজায় দাড়িয়ে থাকা ধর্ষকদের থামিয়ে রাখা সম্ভবপর হবেনা। ঘনবসতিপূর্ণ ৫৬ হাজার বর্গ মাইলের দেশে প্রশাসন এবং বিচার বিভাগের আওতাধীন সবকিছু রয়েছে এমন কোন কথা নয়, ধর্ষণের মতন নিকৃষ্টতর অমানবিক পৈশাচিক অপরাধ ঘটে লোক সমাজের আড়ালেই, অপরাধীদের অভয়ারণ্যে।
এমন অপরাধ তখনই একজন ব্যক্তি করতে সাহসী হয় যখন সে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পারবে নয়ত ক্ষমতার আড়ালে লুকিয়ে ফেলতে পারবে।
তাই যেমন প্রতিটি ধর্ষণের নিকৃষ্টতর ঘটনা গণমাধ্যমে আসেনা তেমনি সার্বিক বিচার নিশ্চিত করাও সম্ভব হয় কি। একটার পর একটা আকর্ষণিয় সংবাদ প্রবাহে ধর্ষণের ঘটনার বিচারিক পরিণতির অগ্রহো একসময় জনমহলে ক্ষীণ হয়ে আসে, আর অন্য কোন আকর্ষণীয় বিষয় সংবাদমাধ্যমের কেন্দ্রবিন্দুতে যায়গা করে নেয়৷
আর চিরকাল হৃদয়ের রক্তক্ষরণ হতে থাকে ভুক্তভোগী এবং তার পরিবারের। তাই সাময়িক ঘটনার ঢেউয়ে ভাসিয়ে দেয়া ক্রোধ ক্ষোভ আন্দোলন সমালোচনা যেমন সার্বিক ন্যায় বিচারের নিশ্চয়তা দিতে পারেনা, তেমনি পারেনা সকল ভুক্তভোগীর চোখের জল মুছতে তাদের জীবনে সঠিক বিচারের নিশ্চয়তা প্রদান করতে।

তাই আমাদের হাটতে হবে স্থায়ী সমাধানের দিকে, যাহাতে আজকের থেকে আগামীর সুদিনের নিশ্চয়তা আরও দৃঢ় হয়।
আমি লেখাটির শুরুর দিকে শিক্ষিত ধর্ষকদের কথা উল্লেখ করেছি তাই বলতেই হয় আমাদের চাকরি মুখি শিক্ষাব্যবস্থা যা চাকরির নিশ্চয়তা দিতেও যেমন অযোগ্য তেমনি নৈতিকতা বিবর্জিত পাঠ্যবই ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতেও অক্ষম।
ধর্ষণের মতন নিপিড়ন মূলক অপরাধ যে কতটুকু নিকৃষ্টতর সে বোধ তৈরি করতে সমাজ গঠনের কারিগর যে একাডেমি গুল তারা ব্যর্থ।
সুশিক্ষাই পারে কুশিক্ষাকে দূর করতে, আমার জীবনের শিক্ষায় তনিক অভিজ্ঞতা থেকে আমি বলতে পারি ধর্ষণ এবং তার ভুক্তভোগীর পরিবারের পরিণতি তাদের অস্তিত্বহীনতা বোধ, বিচার বঞ্চিত বোধ এ সকল বিষয় নিয়ে শিক্ষনীয় বিষয় আমি পাঠ্যসূচিতে পাইনি।
আর যদি শিক্ষাই যদি মানুষ গড়ার মাধ্যম হয়ে থাকে তবে মনুষ্যত্বের পাষবিক দিকটা কিন্তু আমাদের অজানাই থেকে যায়। তাই ধর্ষণের মতন নিকৃষ্টতর অমানবিক পৈশাচিক অপরাধ নির্মূলের জন্য মানুষের মধ্যে তৈরি করতে হবে অপরাধবোধ, যা একমাত্র চিরস্থায়ী সমাধান এনে দেবে।
ধর্ষকদের মাথায় শিং থাকেনা যে তাদের আলাদা ভাবে চিহ্নিত করার কোন উপায় আছে, প্রতিটি মানুষের মধ্যে যে নরপশু থাকে তাকে দমন করতে হবে সার্বিক নৈতিক শিক্ষা দিয়ে যা কোন নির্দিষ্ট কোন জাতির নয়, ধর্মের নয় অঞ্চলের নয় যা হবে সর্বজনিন নৈতিকতা থেকে আসা মনুষ্যত্বের প্রতিফলন।
তাই আসুন আমরা শুধু ধর্ষকদের সর্বচ্চ শাস্তি প্রশাসনিক তৎপরতা সামাজিক মূল্যবোধ এর সাথে সকল মানুষের মাঝে জাগিয়ে তুলি অপরাধবোধ, কারণ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিচারক মানুষের মনুষ্যত্ব।
Discussion about this post