মোঃ জাহিদ হোসেন, চট্রগ্রাম প্রতিনিধিঃ নগরীতে প্রেমের নামে প্রতারণায় ফাঁদ পাতছে বেশ কিছু চক্র। এইসব চক্রের লক্ষ্য ধনী পরিবাবের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েরা। সাম্প্রতি ভুক্তভোগী উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর এক ছাত্রীর বাবা এই ব্যাপারে পর্ণোগ্রাফী নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় মামলা দায়ের করে।
বিডিলনিউজের তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে এক শ্রেণীর উঠতি বয়সের বখে যাওয়া কিছু তরুণ তাদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্নভাবে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া সহজ সরল মেয়েদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ার জন্য টার্গেট করে। এর জন্য তারা কিছু অভিনব কৌশলের আশ্রয় নেয়। প্রথমে এইসব চক্রের সদস্যরা বিভক্ত হয়ে আলাদা আলাদা ভাবে কোন ধনী পরিবারের মেয়ের সাথে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা চালায়। এতে প্রথম কোন সদস্য ব্যর্থ হলে পরবর্তী সদস্য ঐ মেয়ের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য পথ খুঁজে। এই প্রক্রিয়ায় চক্রের কোন সদস্য ওই মেয়েটির সাথে পরিচিত বা বন্ধুত্ব করতে পারলে মেয়েটির আস্থা অর্জন করার চেষ্টা করে। তাদের অন্য একজন সদস্য মেয়েটির বাসার দারোয়ান বা পরিচিত কারো সাথে বিভিন্ন কৌশলে সুসম্পর্ক তৈরী করে। মাঝে মাঝে তাদের ম্যানেজ করার জন্য বখশিশও দেওয়া হয়।
এই ভাবে মেয়েটির সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য ও তার ব্যক্তিগত বা বাসার নাম্বারও যোগার করে নেয় প্রতারক চক্র। আরও জেনে নেয় পরিবারের লোকজন কি করে, কখন বাসায় থাকে, কখন বাসায় থাকে না, কোথায় যাওয়া আসা করে ইত্যাদি।
চক্রের নির্দিষ্ট কোন সদস্যের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে যাবার পর ওই সদস্য মেয়েটির পছন্দ অপছন্দের বিষয়, পরিচিত কোন বিষয় কিংবা পরিচিত কোন মানুষের সম্পর্কে আলোচনা করে বন্ধুত্বের সম্পর্কটা গভীর করে তুলার চেষ্টা করে এবং আবেগে ফেলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। এর পর শুরু হয়ে যায় প্রতারণার পালা। ভালবাসার ফাঁদে ফেলে এবং বিভিন্ন বানানো পরিস্থিতি সৃষ্টি করে মেয়েটি থেকে নানান ভাবে মোটা অঙ্কের টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্রের সদস্যটি।
এর মধ্যে কিছু কিছু প্রেমের সম্পর্ক শারীরিক সম্পর্ক পর্যন্ত চলে যায়। সুযোগ বুঝে মোবাইলে বা ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ক্লিপ গুলো নিয়ে মেয়েটিকে ব্ল্যাকমেইল করে। দাবী করা হয় মোটা অঙ্কের টাকা। না হলে শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ক্লিপ মোবাইল বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে বার বার হুমকি দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে কোন কোন মেয়ে দাবীকৃত টাকা দিয়ে বাঁচতে চেষ্টা করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেয়েটির পরিবারের কেউ এতো কিছু হয়ে গেলেও জানতে পারে না। আদায়কৃত টাকা প্রতারক চক্রের সদস্যরা পরে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেই। এভাবে তারা শুরু করে আরেক নতুন মিশন।
Discussion about this post