বিবাহ বিচ্ছেদের পর সন্তানকে আসলে কে পাবে?
বর্তমানে বাংলাদেশে বিবাহবিচ্ছেদের হার আশংকাজনক হারে বাড়ছে । আদালত পাড়ার সঙ্গে আমরা যারা যুক্ত তাদেরকে প্রতিনিয়তই ঠুনকো কারণে অসখ্য বিবাহ বিবাহ বিচ্ছেদের স্বাক্ষী হতে হয় । একটা বিবাহ বিচ্ছেদের পর প্রথম যে প্রশ্নটা আসে সন্তান হেফাজতে নেওয়ার প্রকৃত অধিকারী কে হবেন ।
স্বামী, স্ত্রী উভয় পক্ষই চাই সন্তানকে নিজ হেফাজতে নিয়ে নিজের মত করে মানুষ করতে । বিচ্ছেদের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এই ইস্যুতে শুরু হয় আবার নতুন করে দ্বন্দ্ব । এ দ্বন্দ্ব অনেক সময় এতটাই প্রকট আকার ধারণ করে যে এক পক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে সন্তান অপহরণের মামলা পর্যন্ত করে বসে ।
আর আইনের ছাত্র হিসেবে প্রায়ই নানা জায়গায় এমনকি সামাজিক মাধ্যমে ও এই বিষয়ে অনেকে পরামর্শ চাই । মূলত তাদের জন্যই আজকের এই লেখা । ইসলামিক আইন অনুযায়ী পিতাই সন্তানের আইনগত অভিভাবক হিসেবে নিযুক্ত হন ।

পিতার অবর্তমানে তার ইচ্ছাপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত ব্যাক্তি অভিভাবক হিসেবে নিযুক্ত হবেন । যদি এরকম ব্যক্তিও না থাকে তবে পিতার অবর্তমানে দাদা আর দাদার অবর্তমানে তার ইচ্ছাপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত ব্যক্তি অভিভাবক হিসেবে নিযুক্ত হবেন ।
তবে আমাদের দেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সন্তানের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় অভিভাবকত্ব নির্ধারণের সুযোগ আছে । একজন মা তার সন্তানের অভিভাবক হতে পারেনা কেবলমাত্র হেফাজত চাইতে পারে ।
এই হেফাজতের সময়সীমা পুত্র সন্তানের ক্ষেত্রে ৭ বছর বয়স পর্যন্ত এবং কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে ৮ বছর বয়স পর্যন্ত ।
যদি পিতা বা তার পক্ষে নির্ধারিত অভিভাবক কোন কাজের দ্বারা অভিভাবকত্বের বিষয়ে কোন দায়িত্ব পালনে ব্যার্থ হয়, তাহলে সংক্ষুব্দ মাতার অধিকার আছে তার হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করার ।
পরিস্থিতি বিবেচনায় আদালত মাতাকে শুধুমাত্র হেফাজতে নেওয়ার না ক্ষেত্র বিশেষে অভিভাবকও ঘোষণা করতে পারেন । জোহরা বেগম বনাম মাইমুনা খাতুন ( ১৬ ডিএলয়ার ১৯৬৪ ) মামলায় উচ্চ আদালতের এমনটাই সিদ্ধান্ত ।
লেখকঃ
মোঃ মাহমুদুল হাসান
Email/Facebook: justicemmhasan@gmail.com
Discussion about this post