বিবাহ বিচ্ছেদে প্রতারণার হাত থেকে বাঁচার উপায়
বর্তমান সমাজে বিবাহ নিয়ে অহরহ প্রতারণার ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। অনেক সময় দেখা যায় দুজন ছেলেমেয়ে তারা নিজেরা নিজেদের ইচ্ছায় বিয়ে করেন কিন্তু বিয়ের কথা কেউ পরিবারের কাউকে জানান না এর পরে দেখা যায় কিছুদিন যেতে না যেতেই ছেলে বা মেয়ের বিয়ের কথা গোপন রেখে অন্য কোথাও পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী বিয়ে করে ফেলেন।
আবার অনেক সময় দেখা যায় দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক কোনো কারণে ভেঙে গেলে কোনো পক্ষ ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে দাবি করতে থাকে।
এমনও দেখা যায় কখনো্ বিয়ে হয়নি অথচ বিয়ে হয়েছে বলে মিথ্যা প্রমাণ দেখিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মতো সংসার করতে থাকেন। মেয়েটিকে আর ভালো না লাগলে কিংবা মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়লে ছেলেটি বিয়েটিকে অস্বীকার করতে থাকেন।
এ ধরনের ঘটনাগুলোকেই বিয়ে-সংক্রান্ত অপরাধ হিসেবে ধারা হয়। বিবাহ নিয়ে যদি প্রতারণা বা কোনো অপরাধ ঘটে তাহলে এর কি কোনো প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ আছে? জ্বী আছে।বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০ আইনে বিবাহ-সংক্রান্ত অপরাধের শাস্তির বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ দন্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী বিবাহ বিচ্ছেদে প্রতারণার সাজা!
বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৯৩ ধারা থেকে ৪৯৬ ধারা পর্যন্ত বিবাহ-সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের শাস্তির বিধান উল্লেখ রয়েছে, এর মধ্যে অধিকাংশ অপরাধই জামিন অযোগ্য অপরাধ।
বাংলাদেশ দন্ডবিধি ধারা ৪৯৩ এ বলা হয়েছে যে যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারীকে প্রতারণামূলকভাবে আইনুযায়ী বিবাহিত বলে সমাজে বিশ্বাস করাতে থাকেন অথচ আদৌ ঐ বিবাহ আইন সম্মত ভাবে হয় নাই এবং সেই নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন, তবে তাকে আদালত ১০ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন।
বাংলাদেশ দন্ডবিধি ৪৯৪ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি একজন স্বামী বা একজন স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও পুনরায় দ্বিতীয় বিবাহ করেন, তাহলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সাত বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।
বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৪৯৫ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি দ্বিতীয় বিয়ে করার সময় পূর্বের বিয়ের তথ্য গোপন করে রাখেন এবয় সেটি যদি দ্বিতীয় বিবাহিত ব্যক্তি জানতে পারেন, তাহলে অপরাধী ব্যক্তি ১০ বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।
বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৪৯৬ ধারায় বলা হয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি আইনসম্মত বিবাহ ব্যতীত প্রতারণামূলকভাবে বিবাহ সম্পন্ন করেন, তাহলে অপরাধী ব্যক্তি সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং তদুপরি অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
যদি কোনো মুসলমান ব্যক্তি ১ম স্ত্রী থাকলে সালিসি পরিষদের অনুমতি ছাড়া এবং প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে করেন তাহলে তিনি ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬ (৫) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে বিবেচিত হবেন। অভিযোগকারীর অভিযোগটি আদালতে প্রমাণিত হলে সে ব্যক্তিকে এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দন্ডিত হতে পারে।
বিবাহ বিচ্ছেদে প্রতারণার হাত থেকে বাঁচার উপায়/ সতর্কতা!
মুসলিম বিবাহ নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। এটা স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই মনে রাখতে হবে। বর্তমানে হিন্দু বিয়ের নিবন্ধনও ঐচ্ছিক করা হয়েছে। বিয়ের হলফনামা করা থাকলে তাও সংগ্রহে রাখতে হবে।
বিবাহ যেভাবেই সম্পন্ন হোক না কেন বিবাহের কাবিননামা কিংবা বিয়ের সব দলিল নিজের কাছে রাখা দরকার। কাবিননামার ওপর কাজির সীল স্বাক্ষর আছে কি না তা যাচাই করে নিতে হবে এবং কোন কাজির মাধ্যমে বিয়েটি সম্পন্ন করা হয়েছে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে সত্যতা যাচাই করে নিতে হবে।
কীভাবে আইনের আশ্রয় নিতে হবে?

প্রথমে থানায় এজাহার হিসেবে মামলা দায়ের করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় থানায় মামলা না নিতে চায় না তাহলে সরাসরি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গিয়ে মামলা দায়ের করা যাবে।
আপনাকে প্রথমে আদালতে মামলা করার সময় যথাযথ প্রমাণসহ অভিযোগের স্পষ্ট বর্ণনা থাকতে হবে এবং সাক্ষীদের নাম-ঠিকানাও থাকতে হবে। আদালত অভিযোগকারীর জবানবন্দি গ্রহণ করে যেকোনো আদেশ দিতে পারেন। অনেক সময় অভিযোগ আমলে না নিয়ে প্রাথমিক তদন্তের জন্য নির্দেশ দিতে পারেন।
কেউ যদি স্বামী বা স্ত্রীর পরিচয়ে নিজেদের অন্তরঙ্গ ছবি ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে অথচ আদৌ কোনো বিয়ে সম্পন্ন হয়নি তাহলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা করার সুযোগ আছে এবং এ মামলা থানায় করতে হবে। এ ছাড়া ভুয়া কাবিননামা তৈরি করলে জালিয়াতির অভিযোগও আনা যাবে।
আরো জানুন বাংলাদেশের সংবিধান কি ও সংবিধান সম্পর্কে বিস্তারিত
লেখকঃ ল ফর ন্যাশনস, ইমেইলঃ lawfornations.abm@gmail.com, মোবাইল: 01842459590.
Discussion about this post