নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে এক যুবকের লাশের ময়নাতদন্তের সময় পেটের ভেতরে ১১ প্যাকেট ইয়াবা পেয়েছেন চিকিৎসকরা। প্রত্যেক প্যাকেটে ৩০ থেকে ৩৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট ছিল। তবে কোন কোন প্যাকেটের ইয়াবা গলে গেছে। ৩৫ বছর বয়সী ওই যুবকের নাম জুলহাস। তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায়। সেখানকার থানায় ওই যুবকের নামে মাদকের দুটো মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।
আজ শনিবার সকালে যখন ময়নাতদন্ত করা হয় তখন তাদের পেটের ভেতরে ‘এসব পোটলা’ পাওয়া পায় ফরেনসিক বিভাগের ডাক্তাররা।
হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় জুলহাস নামের এই যুবকের লাশ তাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল ময়নাতদন্তের জন্যে। পরে শনিবার সকালে যখন ময়নাতদন্ত করা হয় তখন তাদের পেটের ভেতরে ইয়াবার পোটলা পেয়েছেন। তিনি বলেন, পুলিশ জানিয়েছে মুগদার একটি হাসপাতালে রক্তবমি হয়ে নাকি ওই তরুণের মৃত্যু হয়েছে। তবে তার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ থাকার কারণে পুলিশ ময়নাতদন্তদের জন্যে তার লাশটি হাসপাতালে পাঠিয়েছিল।
এই যুবকের কিভাবে মৃত্যু হয়েছে জানতে চাইলে ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ইয়াবার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন। তার মতে, ইয়াবার যেসব পোটলা সে গিলে খেয়েছিল সেগুলোর একটা দুটো বিস্ফোরিত হয়ে সে মারা গেছে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।’
এতোগুলো ট্যাবলেটের প্যাকেট গিলে খাওয়া সম্ভব কীনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সম্ভব বলেই তো ট্যাবলেটগুলো তার পেটে পাওয়া গেছে।’ ওই যুবকের পেটের ভেতরে ইয়াবা পাওয়ার কথা মতিঝিল থানার পুলিশকে জানানো হয়েছে ।
মতিঝিল থানার পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জুলহাস মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল বলে তারা তাদের প্রাথমিক তদন্তে জানতে পারছেন। মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) ওমর ফারুক বলেন, শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে কমলাপুরে বিশ্বাস টাওয়ারের সামনে সে রাস্তার উপরে বমি করছিল। স্থানীয় লোকজন তখন পুলিশকে জানায় যে এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে রাস্তায় পড়ে আছে। পুলিশ গিয়ে দেখেন যে লোকজন তার মাথায় পানি ঢালছে। তখন পুলিশ তাকে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। এবং দুপুর ১১টার দিকে সে মারা যায়।
ওমর ফারুক আরো জানান, নেত্রকোনা থেকে জুলহাসের এক ভাই তার লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্যে এসেছিল; কিন্তু আমাদের সন্দেহ হওয়ার কারণে আমরা পোস্টমর্টেমের জন্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাই। এরপর হাসপাতাল থেকে আমাদের জানানো হয়েছে যে তার পেটের ভেতরে প্লাস্টিকের যেসব প্যাকেট ছিল তার মধ্যেই ছ’টি প্যাকেট গলে গেছে। জুলহাসের নামে নেত্রকোনা থানায় মাদকের দুটো মামলা রয়েছে। পাচারের জন্যেই তিনি হয়তো এসব ইয়াবা তার পেটে করে বহন করছিলেন। সূত্র: বিবিসি বাংলা
Discussion about this post