অনলাইন ডেস্ক
চিরকুটে লেখা ছিল, স্কুল নিরাপদ নয় এবং শিক্ষকদের বিশ্বাস করা যায় না। সে লিখে গেছে, ‘স্বপ্নেও মানসিক নির্যাতনের’ কারণে পড়াশোনা এমন ঘুমেও ব্যাঘাত হতো’
ভারতের চেন্নাইয়ে একাদশ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার তিন দিন পর তার রেখে যাওয়া একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। এতে লেখা ছিল, “মেয়েরা শুধু মায়ের গর্ভ আর কবরে নিরাপদ।” এ ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ২১ বছর বয়সী এক কলেজছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (২০ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার চেন্নাইয়ের উপকণ্ঠে নিজ বাড়িতে ওই ছাত্রীর মা বাজার থেকে ফিরে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবক ওই স্কুলছাত্রীকে কথা হয়রানির স্বীকার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক যুবককে ভারতীয় দণ্ডবিধির “প্রোটেকশন অব চাইল্ড ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্সেস” আইনে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার তদন্তে নিযুক্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, “ছেলেটি নাবালিকা মেয়েটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে সে তাকে হয়রানি ও নির্যাতন করে আসছিল।
আমরা অশ্লীল মেসেজ এবং ছবি আদান-প্রদানের বিষয়টি খুঁজে পেয়েছি। আট মাস ধরে তাদের মধ্যে ভালো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তিন বছর আগে মেয়েটি যখন ৮ম শ্রেণিতে পড়ত তখন ছেলেটি একই স্কুলে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরে ভুক্তভোগী একটি গার্লস স্কুলে চলে যান। যদিও দুজনে ইনস্টাগ্রামে বন্ধু হয়ে ওঠে।”
ঘরে পাওয়া ওই নোটে মেয়েটি লিখে গেছে, স্কুল নিরাপদ নয় এবং শিক্ষকদের বিশ্বাস করা যায় না। তার অভিযোগ, “স্বপ্নেও মানসিক নির্যাতনের কারণে পড়াশোনা এমনকি ঘুমেও ব্যাঘাত হতো। প্রত্যেক বাবা-মায়ের উচিত তাদের সন্তানদের নারীদের সম্মান করতে শেখানো।”
নোটে আরও লেখা ছিল, “যৌন হয়রানি বন্ধ করুন”। মেয়েটি লেখা শেষ করেছে, “আমার জন্য ন্যায়বিচার” দিয়ে। নোটে সে সম্ভাব্য তিন গোষ্ঠীর হয়রানির কথা উল্লেখ করেছে – “আত্মীয়, শিক্ষক, সবাই”।
ভারতে গত কয়েক সপ্তাহে যৌন হয়রানির কারণে আরও চারটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দুটি ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন শিক্ষক।
Discussion about this post